বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২৩ পূর্বাহ্ন
পার্বত্যতে ত্রিপুরা-মারমার অপসারণ দাবি তীব্র আন্দোলন শুরু!
মোহাম্মদ কেফায়েত উল্লাহ, খাগড়াছড়ি জেলা প্রতিনিধি
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা ও যুগ্ম-সচিব কংকন চাকমার অপসারণ দাবি করেছে খাগড়াছড়ির ‘ত্রিপুরা-মারমা সচেতন সমাজ’। আজ খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
পার্বত্য চট্টগ্রামের ত্রিপুরা ও মারমা জনগোষ্ঠীর সাথে প্রশাসনিক ও উন্নয়ন বৈষম্যের অভিযোগ তুলে সকাল ১১টার দিকে অনুষ্ঠিত
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক রুমেল মারমা।
সচেতন মারমা সমাজের প্রতিনিধি রুমেল মারমা বলেন—“বৈষম্যহীন, প্রতিনিধিত্বমূলক একটি নতুন বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্নে আমরা পথযাত্রা করেছিলাম। কিন্তু, দু:খের বিষয়, আজ পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় হয়ে উঠেছে একটি সম্প্রদায়ের একচেটিয়া কর্তৃত্বের প্রতীক। এখানে ত্রিপুরা-মারমা জাতিগোষ্ঠীর জন্য নেই ন্যায্য অধিকার, নেই ন্যূনতম সম্মান।
রুমেল মারমা অভিযোগ করে বলেন : বরাদ্ধ প্রকল্প, প্রশাসনিক পদ—সবখানেই চলছে পক্ষপাত ও গোষ্ঠীগত আধিপত্য, যার ফলে পাহাড়ি সমাজে তৈরি হয়েছে প্রবল অসন্তোষ ও হতাশা।
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে চার দফা দাবি পেশ করা হয়। এক. সুপ্রদীপ চাকমাকে উপদেষ্টার পদ থেকে দ্রুত অপসারণ করতে হবে। দুই. কংকন চাকমাকে যুগ্ম-সচিব পদ থেকে প্রত্যাহার করতে হবে। তিন. পার্বত্য তিন জেলায় প্রকল্প ও বরাদ্ধ ‘ন্যায্যতা ও সংবেদনশীলতা’র ভিত্তিতে বণ্টন করতে হবে এবং চার. আঞ্চলিক পরিষদ, জেলা পরিষদ এবং টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান পদে মারমা ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়, সরকার যদি এসব দাবি আমলে না নেয়, তাহলে তারা বৃহত্তর গণআন্দোলনের পথে যাবেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কার্বারী সূর্য কিরণ ত্রিপুরা, প্রশান্ত ত্রিপুরা, ম্রাচাই মারমা, উক্রাচিং মারমা, চিংলামং মারমা, মিনুচিং মারমা, সীমা ত্রিপুরা, তনয় ত্রিপুরা প্রমুখ।